![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
রাজশাহীতে মুনতাহা মারিশা (২) ও মুফতাউল মাসিয়া (৫) নামের দুই বোনের মৃত্যু নিপাহ ভাইরাসে হয়নি। অন্য কোনো অজানা ভাইরাসের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে কি কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে এ বিষয়ে এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এর প্রতিবেদন ১৫ দিনের মতো সময় লাগতে পারে।
দুই শিশুর মৃত্যুর পর তাদের নমুনা সংগ্রহ করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়। রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আইইডিসিআর-এর প্রতিবেদন রাজশাহী মেডিকেলে এসে পৌঁছায়। ওই প্রতিবেদন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শংকর কে বিশ্বাস। তিনি বলেন, যেহেতু কি ভাইরাসে দুই শিশু মারা গেছে সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। তাই তাদের বাবা-মা এখনও আইসলিউশনে থাকবে। ভাইরাস নিশ্চিত হওয়ার পরই তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে নিহত দুই শিশুর মা-বাবার শারীরিক অবস্থা ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। রামেক হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মনিরুজ্জামান জানান, তাদের বাবা-মায়ের শারীরিক অবস্থা ভালো। কিন্তু মানসিকভাবে তারা খুব খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে আছেন।
গত বুধবার দুই বোনের মধ্যে ছোটটি মারিশা বুধবার বিকেলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। বড় বোন মাসিয়ার মৃত্যু হয় গতকাল শনিবার। হঠাৎ করে দুই মেয়ের মৃত্যুর পর মা-বাবাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই শিশুর মৃত্যু নিপাহ ভাইরাসে না অন্য কোনো অজানা ভাইরাসে হয়েছে, তা নিশ্চিত করে চিকিৎসকেরা বলতে পারছিলেন না। এরপর তাদের নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হয়।
দুই শিশুর বাবা মঞ্জুর হোসেন রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক। তারা ক্যাডেট কলেজের কোয়ার্টারেই ছিলেন।
মনজুর রহমান বলেন, গত মঙ্গলবার কোয়াটারের পাশে কুড়িয়ে পাওয়া বরই খেয়েছিল মারিশা আর মাশিয়া। পরে বুধবার মারিশার জ্বর বমি হয়। তাকে রাজশাহীর সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করে। এরপর শুক্রবার মাশিয়ারও জ্বর আসলে রাজশাহীতে সিএমএইচে আনলে মাশিয়ারও পুরো শরীরে ছোট কালো দাগ উঠতে থাকে। চিকিৎসকেরা তাকে রামেক হাসপাতালে পাঠায়। রাতে রামেক হাসপাতালে আনলে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। শনিবার বিকালে মাশিয়াও মারা যায়।